

নিজস্ব প্রতিবেদন : বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে লবণাক্ততা, নদীভাঙন ও নিরাপদ পানির সংকটে বিপর্যস্ত খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের লাখো মানুষ। সুন্দরবনের সম্পদ একদিকে জীবিকা দিলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বেড়িবাঁধ ভাঙন ও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে মানুষের জীবন এখন স্থায়ী অনিশ্চয়তায় আটকেছে।
উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বাড়ছে কয়েক দশক ধরেই। কৃষিজমি অনাবাদি হয়ে পড়ছে, কমছে ফসল ও মিঠাপানির উৎস। একসময় যে অঞ্চলে ৮০ হাজার ঘেরে লোনা পানির চিংড়ি চাষ হতো, সেখানে এখন ঘের কমে ৬০ হাজারে। চিংড়ি রেণু কমে যাওয়া, ঘেরে রোগ দেখা দেওয়ায় লোকসান চাষিদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংস্থা প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশনের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৯৫ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত খুলনা–সাতক্ষীরার পাঁচটি উপজেলায় কৃষিজমি কমেছে ৭৮ হাজার একর।
পাইকগাছা, কয়রা, আশাশুনি, শ্যামনগর—সব জায়গায় একই গল্প। নারীরা প্রতিদিন কয়েক কিলোমিটার হাঁটেন এক কলস মিঠা পানি আনার জন্য। পুকুরের লবণাক্ততা, গভীর নলের পানিতে লবণ–আয়রন বেড়ে যাওয়ায় শত শত পরিবার সুপেয় পানির তীব্র সংকটে।
খুলনা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত লবণের কারণে ত্বক ও আন্ত্রিক রোগ বাড়ছে। শিশু ও নারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে।
সাগরে নিম্নচাপ তৈরি হলেই নদীর পানি ৩–৪ ফুট বেড়ে যায়। নড়বড়ে বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয় গ্রাম। আইলা, সিডর, আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত কয়রা–শ্যামনগরের মানুষ এখনও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।
সম্প্রতি শাকবাড়িয়া নদীর ১৪/১ নম্বর পোল্ডারের প্রায় ১০০ মিটারে ধস দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অন্তত দুই হাজার একর ধানক্ষেত ও অসংখ্য ঘের লোনাপানিতে তলিয়ে যাবে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক দিলীপ দত্ত বলেন— “উপকূলে পানির অভাব নেই, অভাব মিঠাপানির। ভূগর্ভস্থ পানি ৬০০–২,৫০০ বছরের পুরোনো—এটা পুনরায় পূরণ হতে শতাব্দী লাগবে। পুকুর–খাল ভরাট হওয়ায় সংকট ভয়াবহ হয়েছে।”
প্রধান কার্যালয়ঃ মহা সি.এন.জি ভবন সংলগ্ন (৪র্থ তলা), ঢাকা- ময়মনসিংহ রোড, মাওনা চৌরাস্তা, শ্রীপুর, গাজীপুর।
মোবাইলঃ ০১৫৩১-১৭২৭৫০ , ইমেইলঃ dbhorerpatrika.com
ওয়েবসাইটঃ www.bhorerpatrika.com বিজ্ঞাপনঃ ০১৩০৫-৯৫০৬২৫ ইমেইলঃ info@bhorerpatrika.com