উপকূলীয় ১৫ জেলা সহ সারাদেশে শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৭ মাস আগে

কনকনে হাওয়া, ঘন কুয়াশা ও তাপমাত্রার পতনে নিম্নআয়ের মানুষের জীবন কঠিন হয়ে পড়েছে

সিরাজুল ইসলাম : সাতক্ষীরা সহ দেশের উপকূলীয় জেলা ও উত্তরাঞ্চল জুড়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। হিমেল হাওয়ায় বাইরে বের হওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে, তাপমাত্রা দেশে বিভিন্ন অঞ্চলে মৌসুমের সর্বনিম্নে নেমেছে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ, দিনমজুর, জেলে ও কৃষকরা চরম কষ্টে জীবনযাপন করছেন।

ভোলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যেখানে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২২ ডিগ্রি। মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীর তীরবর্তী ৩ লাখ মানুষকে বিশেষভাবে বিপাকে ফেলেছে এই ঠান্ডা। জেলে ও কৃষকেরা নদী বা মাঠে কাজ করতে পারছেন না, গরম কাপড়ের অভাবে শীত আরও কষ্টদায়ক হচ্ছে। ভোলা জেলা প্রশাসন ৮ হাজার কম্বল বিতরণ করেছে, তবে চাহিদার তুলনায় এটি খুবই নগণ্য।

বরিশালে ঘন কুয়াশা ও শীতজনিত হাওয়া তাপমাত্রা স্বাভাবিকের ২ ডিগ্রি নিচে নেমে জনজীবনকে প্রভাবিত করছে। ফসলের ক্ষেত্রেও শীতের প্রভাব পড়েছে; বোরো ধানের বীজতলা, আলু ও শাকসবজি ঝুঁকির মুখে। কৃষিবিদরা দীর্ঘস্থায়ী শীত হলে উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা করছেন।

উত্তরের কুড়িগ্রাম, শেরপুর, রাজশাহী ও চুয়াডাঙ্গা জেলাতেও শীতের তীব্রতা অস্বাভাবিক মাত্রায়। কুড়িগ্রামে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে। ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে জনজীবন স্থবির হয়ে গেছে, নদীপাড়ের চরাঞ্চলের মানুষ পেটের দায়ে শীত উপেক্ষা করে কাজ করছেন। শেরপুরে টানা ৭–৮ দিন সূর্যের দেখা নেই; শিশু, বৃদ্ধ ও ছিন্নমূল মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘন কুয়াশার কারণে যান চলাচলে সমস্যা দেখা দিয়েছে। যানবাহন হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীর গতিতে চলছে। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শীতজনিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। বরিশাল মেডিকেল কলেজ ও অন্যান্য হাসপাতালে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও ডায়রিয়ার রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত লঘুচাপ ও শৈত্যপ্রবাহ আগামী কয়েকদিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে শীতার্ত মানুষের পাশে দ্রুত ও কার্যকর সহায়তার দাবি জানানো হয়েছে।