উপকূলীয় বাস্তুচ্যুত শিশুদের হারানো শৈশব: বন্যা, ঝড় ও দারিদ্র্যের সঙ্কটে পড়ছে ভবিষ্যৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৭ মাস আগে

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বস্তিতে স্কুলছাড়া শিশুরা ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত, বিশেষ শিশুদের সেবা কম, দারিদ্র্য ও জলবায়ু পরিবর্তন শিশুদের জীবনকে ভেঙে দিচ্ছে

সিরাজুল ইসলাম : বাংলাদেশ বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি। প্রতিবছর বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও নদীভাঙনে সাত লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। ভিটেমাটি হারানো পরিবারগুলো শহরের প্রান্তিক এলাকায় আশ্রয় নিলেও শিশুদের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চট্টগ্রামের প্রান্তিক বস্তিতে বসবাসরত জলবায়ু বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর শিশুদের প্রায় ৬০ শতাংশই ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত। শিশু শ্রমিকদের প্রধান খাত শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ধাতব কারখানা। এসব খাতে শিশুরা ভারী বোঝা বহন, ধারালো যন্ত্র ব্যবহার এবং বিষাক্ত রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসে।

ইপসা ও স্থানীয় গবেষকরা জানান, এসব শিশু স্কুলছাড়া হয়ে পড়ে, খেলাধুলা ও স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার সুযোগ হারায়। দেশের শিশুশ্রমের পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় ৩৫ লাখ শিশু শ্রমে যুক্ত, যার মধ্যে ১০ লাখ ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিযুক্ত।

শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের আট বছরের মিয়ারাজ স্কুলে ভর্তি হলেও যায় না। মা রহিমা বলেন, “লেখাপড়া শিখে কী হবে? চাকরি নেই, বাদাবনে দিয়ে দেব।” গাবুরার ৭ বছরের সাবিনা নিজের পড়াশোনা করতে পারছে না। কারণ ঘরে থাকা বয়স্ক দাদিকে দেখাশোনা করতে হয়।

বিশেষ শিশুদের পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। অটিজম আক্রান্ত শিশুদের জন্য স্পেশাল স্কুল ও থেরাপি সেবা সীমিত। স্পিচ থেরাপিস্ট ও অকুপেশনাল থেরাপি ব্যয়বহুল, পরিবারগুলো সেবার খরচ বহন করতে পারেনা।

মো. শামসুদ্দোহা বলেন, “জাতীয় জলবায়ু অভিযোজন পরিকল্পনায় শিশু, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিষয়গুলো উপেক্ষিত। শিশুদের বিকাশ ব্যাহত হলে তা পরবর্তী প্রজন্মকেও প্রভাবিত করে।”

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রও স্বীকার করেন, “নগরীর ফুটপাতে জলবায়ু বাস্তুচ্যুত পরিবার ও শিশুদের উপস্থিতি এখন নিত্যদিনের দৃশ্য। ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যুক্ত হয়ে তারা ভবিষ্যতের জন্য বড় সমস্যা তৈরি করছে।”