উপকূলীয় বাংলাদেশে লবণাক্ততা ও চিংড়িচাষে পরিবেশ সংকট বৃদ্ধি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৭ মাস আগে

  • সুন্দরবন ও নদীজলবেষ্টিত অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা, নদীভাঙন ও দূষণের ফলে কৃষি, মৎস্যচাষ ও মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে।

সাতক্ষীরা থেকে সিরাজুল ইসলাম: বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীজলবেষ্টিত অঞ্চলগুলোতে লবণাক্ততা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফারাক্কা বাঁধের পর গঙ্গার প্রাকৃতিক প্রবাহ হ্রাস পাওয়ায় সমুদ্রের লবণাক্ত পানি নদীতে অনুপ্রবেশ করছে। এর ফলে কৃষি জমি উর্বরতা হারাচ্ছে, চিংড়িচাষ ও লবণ উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সুন্দরবন, যা বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বাস্তুতন্ত্র হিসেবে পরিচিত, এখন প্রাকৃতিক এবং মানবসৃষ্ট হুমকির মুখে। চিংড়ি চাষ ও অবৈধ কাঠ, মাছ ও মধু আহরণের ফলে বনাঞ্চল কমে গেছে, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি বেড়ে গেছে।

উপকূলীয় বাঁধ প্রকল্প ও চলনবিলের পানি নিষ্কাশন কাঠামো অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করেছে। সাতক্ষীরা, খুলনা ও নাফ নদী এলাকায় চিংড়ি চাষের জন্য লোনাপানি জমিতে ঢুকানো হয়েছে, ফলে কৃষিজমি নষ্ট হচ্ছে। নদীভাঙন ও পলিসঞ্চয়ের ফলে নিম্নভূমি প্লাবিত হচ্ছে, হাজার হাজার মানুষ নিঃস্ব হচ্ছে।

বাংলাদেশে গ্রীনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ তুলনামূলকভাবে কম হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব অনুভূত হচ্ছে। পানি, মাটি এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে, যা দরিদ্র গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনকেই হুমকির মুখে ফেলেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবস্থাপনার ওপর অতি দ্রুত গুরুত্ব দিতে হবে, না হলে সুন্দরবন ও উপকূলীয় এলাকার বাস্তুতন্ত্র এবং মানুষের জীবন বিপন্ন হবে।