

সিরাজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা থেকে: দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে দাকোপ, কয়রা, পাইকগাছা, রামপাল, শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ ও মোংলার মানুষকে পানি সংগ্রহ করতে প্রতিদিন মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, ভূগর্ভস্থ পানি লবণাক্ত এবং আর্সেনিকযুক্ত, আর জলাশয়গুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। ফলে নারী ও শিশুদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পানি আনতে হচ্ছে, কখনোবা টাকা দিয়ে কিনে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। দাকোপের সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার মকবুল গাজী বলেন, “এক কলস পানি আনতে কয়েক মাইল পথ পাড়ি দিতে হয়। লবণাক্ত পানি পান করেই আমাদের বেঁচে থাকতে হচ্ছে।”
শ্যামনগর, আশাশুনি ও দেবহাটার মতো উপজেলার মানুষও একই সমস্যার মুখোমুখি। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের ডা. মানস কুমার বলেন, “দীর্ঘদিন লবণাক্ত পানি পানের ফলে কিডনি, লিভার এবং চর্মরোগের ঝুঁকি বাড়ছে।”
সরকারি উদ্যোগ থাকলেও কার্যকারিতা সীমিত। দাকোপে ১ হাজার ৮১৩টি টিউবওয়েল থাকলেও মাত্র ২৪৭টি চালু এবং তারও অধিকাংশ পানি পানযোগ্য নয়। বেসরকারি সংস্থা ওয়াটারএইডের মাধ্যমে স্কুল ও কমিউনিটিতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করা হলেও চাহিদা মেটাতে অপ্রতুল।
স্থানীয়রা দোষ দিচ্ছেন চিংড়ি চাষ, জলবায়ু পরিবর্তন ও সরকারের অপরিকল্পিত প্রকল্পকে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শেখ মোতাসিম বিল্লাহ বলেন, “উপকূলীয় এলাকায় কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।”
শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের ফাতেমা বলেন, “ভোরে কলসি নিয়ে বের হতে হয়, তবু কখনও কখনও পানি শেষ হয়ে ফেরত আসতে হয়। এই কষ্ট ছাড়া বাঁচা কঠিন।”
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ২০২৬ সালে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রকল্প শেষ হলে অন্তত দুই লাখ মানুষ সুবিধা পাবেন। তবে স্থানীয়দের মতে, বাস্তব চিত্র আরও ভয়াবহ, এবং বর্ষা বা দুর্যোগ ছাড়া পানির সংকট কাটানো কঠিন।
প্রধান কার্যালয়ঃ মহা সি.এন.জি ভবন সংলগ্ন (৪র্থ তলা), ঢাকা- ময়মনসিংহ রোড, মাওনা চৌরাস্তা, শ্রীপুর, গাজীপুর।
মোবাইলঃ ০১৫৩১-১৭২৭৫০ , ইমেইলঃ dbhorerpatrika.com
ওয়েবসাইটঃ www.bhorerpatrika.com বিজ্ঞাপনঃ ০১৩০৫-৯৫০৬২৫ ইমেইলঃ info@bhorerpatrika.com