‘হার পাওয়ার’ প্রকল্প প্রশিক্ষণ নিয়ে ল্যাপটপ পেলেন ১’শ ৫ জন প্রশিক্ষণার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ২ years ago

নাজমুল হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক :

হার পাওয়ার প্রকল্প, নারীদের মুক্তির পথ,

বিষাদের অন্ধকারে, সূর্য উঠার নতুন রথ।

স্বপ্নের কান্না থামিয়ে,সাহসী পায়ে এগিয়ে যাবো, উন্নতির সোপানে, নতুন জীবন গড়বো।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন হার পাওয়ার প্রকল্প (Her Power Project) এর আওতায় ২য় ধাপে women আইটি সার্ভিস প্রোভাইডার ও women ই-কর্মাস প্রফেশনাল ক্যাটাগরির ১’শ ৫ জন প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে ল্যাপটপ বিতরণ করা হয়।

রোববার বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে ল্যাপটপ বিতরণী অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।

উপজলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুরাইয়া জাহান।

এ প্রকল্পের লক্ষ্য ‘প্রযুক্তির সহায়তায় নারীর ক্ষমতায়ন’ ।  তারই ধারাবাহিকতায় আজকের এই আয়োজন। এ সময় লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জনাব সুরাইয়া জাহান এর হাত থেকে Women  ই-কমার্স  professonal ও women  আইটি সার্ভিস প্রোাভাইডারের প্রশিক্ষানার্থীদের মধ্যে থেকে ল্যাপটপ গ্রহন করে প্রশিক্ষানার্থীরা।

‘হার পাওয়ার প্রকল্পের আওতায় ওমেন ই-কমার্স প্রফেশনাল কোর্সের প্রশিক্ষণার্থী ফারহানা আক্তার দৃষ্টি বলেন, আমি হার পাওয়ার প্রকল্পের লক্ষ্মীপুর জেলার সদরের ই-কমার্স প্রফেশনালের একজন প্রশিক্ষণার্থী। আমি প্রথমে ধন্যবাদ জানাচ্ছি, ‘হার পাওয়ার’ এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল সম্মানিত ব্যক্তিবর্গকে, বিশেষ করে আরিফুর রহমান স্যারকে, যিনি আমাকে যোগ্য মনে করে এই ‘হার পাওয়ার’ কোর্স করার সুযোগ করে দিয়েছেন। আজকের দিনটি আমাদের সবার কাছে সত্যি খুবই আনন্দের। যেটি হয়তোবা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না। আজকে আমরা সবাই অনেক খুশি। একটি মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে আমরা সবাই এখানে একত্রিত হয়েছি। আমি অনার্স প্রথম বর্ষের গণিত বিভাগের একজন শিক্ষার্থী। আমি সব সময় চেয়েছি নিজের অবস্থা থেকে সাবলম্বী হতে এবং পাশাপাশি আমার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে। সে লক্ষ্যে ফ্রিল্যান্সার হওয়া আমার জন্য যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। কিন্তু ফ্রিল্যান্সিং শিখতে হলে আমাকে উচ্চ মূল্যের ফি বহন করতে হবে। যেটা আমার পক্ষে সম্ভব না। হঠাৎ করে একদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হার পাওয়ার প্রকল্প সম্পর্কে জানতে পারি। যেটা দেখে আমার মনে আশা সঞ্চার জাগে। অনতীলম্বে আমি ওমেন ই-কমার্স কোর্সে আবেদন করি। অতঃপর বাছাই পর্ব কোর্সে উত্তীর্ণ হয়ে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে, আজ আমি ওমেন ই-কমার্স কোর্সের একজন প্রশিক্ষণার্থী।এই কোর্সের প্রশিক্ষনার্থী হয়ে আমি কম্পিউটার সম্পর্কে, কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, আইপি এড্রেস, নেটওয়ার্কিং ডিভাইস, email signature, gmail, ms word, মার্কেটিং সম্পর্কে জানতে এবং শিখতে পেরেছি। আমার নিজস্ব কোন ল্যাপটপ ছিল না। আমার ল্যাপটপ না থাকার কারণে ক্লাসে যেগুলো শিখানো হতো আমি বাসায় গিয়ে সেগুলো প্র্যাকটিস করতে পারতাম না। তাই আমি কি করতাম, আমাকে যেখানে প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো আমি সেখানে বেশি সময় নিয়ে আমার কাজগুলো কমপ্লিট করার চেষ্টা করতাম। যেহেতু আজ আমাদেরকে ল্যাপটপ দেওয়া হচ্ছে সেহেতু আমি আশা করছি কোর্স চলাকালীন সময়ে এখন আমি ঘরে বসেই টাকা ইনকাম করতে পারব এবং অবশ্যই অবশ্যই আমি একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হব ইনশাআল্লাহ। আমি আবারো আমার অন্তরের অন্তস্থল থেকে ধন্যবাদ জানাতে চাই এ প্রকল্পের সাথে জড়িত সম্মানিত সকল ব্যক্তিবর্গকে, যারা আমাদেরকে আজকের এই দিনটি উপহার দিয়েছেন। সর্বশেষ আমি সবাইকে আবারো ধন্যবাদ জানিয়ে আমি আমার স্বাগত বক্তব্য এখানে শেষ করছি। ধন্যবাদ সবাইকে।

এই প্রকল্পে ৬ মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রশিক্ষণার্থীরা কল সেন্টার, আউট সোর্সিং, গ্রাফিক্স ডিজাইনার, ওয়েব ডিজাইনার, ডিজিটাল মার্কেটিং, আইটি সার্ভিস প্রোভাইডার, ই-কমার্স, অনলাইন বিজনেস  হিসাবে কাজ করবে।