
নাজমুল হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগরে তিন মাস আগে হত্যার পর লাশ গুম করা হয়েছে—এমন অভিযোগে মামলা হয়েছিল এক গৃহবধূর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। কিন্তু অবাক করা ঘটনা হলো, সেই গৃহবধূ তানিয়া বেগম (২১) হঠাৎ করেই জীবিত ফিরে এসে আদালতে হাজির হয়েছেন। শুধু তাই নয়, আদালতে গিয়ে স্বামী দেলোয়ার হোসেনকে তালাকও দিয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পারিবারিক সূত্র, তিন বছর আগে কমলনগর উপজেলার চর কাদিরা ইউনিয়নের মোহাম্মদ উল্লাহ বেপারীর ছেলে দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে তানিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল।
গত ৯ জুন রাতে তানিয়া শ্বশুরবাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। এর চারদিন পর ১৩ জুন তানিয়ার বোন রিনা আক্তার আদালতে মামলা করেন। মামলায় স্বামী, শ্বশুর, দেবরসহ পরিবারের সাতজনকে আসামি করা হয়।
অভিযোগ ছিল—তারা তানিয়াকে হত্যা করে লাশ গুম করেছে। এরপর থেকেই মামলার আসামিরা আত্মগোপনে ছিলেন।
তবে রোববার দুপুরে হঠাৎ করেই তানিয়া স্বশরীরে আদালতে উপস্থিত হয়ে স্বামীকে তালাক দেন।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য নিজাম উদ্দিন।
শ্বশুর মোহাম্মদ উল্লাহ বেপারী বলেন, “কিছু প্রভাবশালী মহল ষড়যন্ত্র করে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। এতে আমরা সামাজিক ও আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছি। এখন তানিয়া জীবিত ফিরে আসায় আমরা প্রকৃত ঘটনার বিচার ও ক্ষতিপূরণ চাই।”
কমলনগর থানার ওসি তহিদুল ইসলাম বলেন, “ঘটনা নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ পাইনি। ভুক্তভোগীরা চাইলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
