
সিরাজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরায় ফসলি জমিতেই গড়ে তোলা হয়েছে গাজী ব্রিকসসহ একাধিক ইটভাটা। এখানে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে, ফসলি মাটি কেটে ইট তৈরি করা হচ্ছে, এবং মাত্র এক কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অবৈধ ভাটাগুলোর বিষাক্ত কালো ধোঁয়া পরিবেশ দূষণ বৃদ্ধি করছে, বাড়ছে শ্বাসকষ্ট ও নানা রোগের ঝুঁকি।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সাতক্ষীরা কার্যালয় জানায়, জেলার মোট ১২৫টি ইটভাটার মধ্যে ৩০টি বন্ধ। চালু থাকা ৯৫টির মধ্যে মাত্র ৩০টিরই পরিবেশ ছাড়পত্র রয়েছে, বাকি ৬৫টি অবৈধ ও সরকারি লাইসেন্সহীন। এই ভাটাগুলোতে জ্বালানি হিসেবে জালানি কাঠ, তুষ কাঠ, প্লাস্টিক, সয়াবিনের গাথ ও টায়ার পোড়ানো হয়। অধিকাংশ ভাটা গড়ে উঠেছে কৃষি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকার নিকটে।
ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩-এর ধারাগুলো স্পষ্টভাবে লঙ্ঘন হচ্ছে। আইন অনুযায়ী, কৃষিজমি থেকে মাটি নেওয়া, অবৈধ কাঠ পোড়ানো এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও আবাসিক এলাকা থেকে কমপক্ষে এক কিলোমিটারের মধ্যে ভাটা স্থাপন করা নিষিদ্ধ।
মানবাধিকার ও পরিবেশ কর্মী মাধব চন্দ্র দত্ত বলেন, “কালো ধোয়ার কারণে ইকোলজিক্যাল ব্যালান্স নষ্ট হচ্ছে। মাটির উর্বরতা কমছে, বৃক্ষ নিধন হচ্ছে, মানুষ নানারোগে আক্রান্ত হচ্ছে।”
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগীয় প্রধান ডা. কাজী আরিফ আহমেদ বলেন, “ভাটার ধোঁয়া বায়ু দূষণ বাড়াচ্ছে। বৃদ্ধ ও শিশুরা মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে।”
পরিবেশ অধিদপ্তর সাতক্ষীরার সহকারী পরিচালক সরদার শরিফুল ইসলাম বলেন, “আইনের বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে ২০১৮ সালের পর। রিট নিষ্পত্তি না হওয়ায় অবৈধ ভাটাগুলো বন্ধে প্রশাসন পদক্ষেপ নিতে পারছে না। ইতিমধ্যে কিছু ভাটা বন্ধ হয়েছে, বাকিগুলোর জন্য আমরা অপেক্ষা করছি।”
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল বলেন, “প্রতিটি ভাটাই আইন লঙ্ঘন করছে। রিট দ্রুত নিষ্পত্তি করা গেলে দ্রুত অবৈধ ভাটা বন্ধ করা সম্ভব।”
