
মো. ওমর ফারুক, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর): বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে সচেতনতামূলক র্যালি এবং সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার সকালে রায়পুর ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
সকালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলমের নেতৃত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেন— আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মামুনুর রশীদ পলাশ, হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা।
র্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা ডেঙ্গু প্রতিরোধবিষয়ক বিভিন্ন সচেতনতামূলক বার্তাসংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন বহন করেন। এ সময় ‘আসুন সবাই মিলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে একযোগে কাজ করি’ স্লোগানের মাধ্যমে জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়।
র্যালি শেষে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে এক আলোচনা সভা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ, প্রতিরোধের উপায় এবং আক্রান্ত হলে করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বর্ষা মৌসুমে এডিস মশার উপদ্রব ও ডেঙ্গুর ঝুঁকি বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। তাই এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা এবং বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার রাখার ওপর জোর দেন তারা। বক্তারা উল্লেখ করেন, ব্যক্তিগত ও সামাজিক সচেতনতাই ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ডেঙ্গু একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। যথাসময়ে সচেতনতা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে এর বিস্তার অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
চিকিৎসকেরা পরামর্শ দিয়ে বলেন, জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথাসহ ডেঙ্গুর কোনো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করলে ডেঙ্গুজনিত জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের এমন সময়োপযোগী উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের মধ্যে বেশ ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
