রায়পুরে অপহরণের ১৫ ঘণ্টা পর কিশোরের লাশ উদ্ধার, মুক্তিপণ না দেওয়ায় হত্যার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

নাজমুল হোসেন, বিশেষ সংবাদদাতা : লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর রাজিব হোসেন (১৪) নামের এক কিশোর অটোরিকশা চালকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, এক লাখ টাকা মুক্তিপণ না দেওয়ায় তাকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা লাশ ফেলে রেখে গেছে।

শনিবার (২ মে) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ চর-আবাবিল ইউনিয়নের ক্যাম্পেরহাট এলাকার একটি বাগান থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত রাজিব দক্ষিণ চর-আবাবিল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ফজু স্টেশন এলাকার অটোরিকশা চালক মোস্তফা ড্রাইভারের ছেলে।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১ মে) রাত ৮টার পর থেকে রাজিব নিখোঁজ হন। তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। রাতভর স্বজনরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। একপর্যায়ে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

এর মধ্যে শনিবার ভোরের দিকে উপজেলার উদমারা এলাকা থেকে রাজিবের ব্যবহৃত অটোরিকশাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এতে পরিবারের উদ্বেগ আরও বাড়ে।

নিখোঁজের প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে স্থানীয় কয়েকজন ক্যাম্পেরহাট এলাকার একটি বাগানে রক্তাক্ত অবস্থায় রাজিবের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাঁরা পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, নিহতের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে তাকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে।

নিহতের মামা শাহজাহান মাঝি বলেন, ‘শুক্রবার রাতেই একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন করে জানানো হয়, রাজিবকে অপহরণ করা হয়েছে। তাকে ছেড়ে দিতে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। আমরা টাকা দিতে না পারায় আমার ভাগিনাকে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে গেছে।’

তবে মুক্তিপণ দাবির বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। হায়দরগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘নিখোঁজের পর রাজিবের অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়। পরে শনিবার দুপুরে তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ঘটনাটির রহস্য উদ্‌ঘাটনে কাজ করছে পুলিশ। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।