রায়পুরের রহস্যময় জ্বিনের মসজিদ: কল্পনা না বাস্তবতা?

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ১ বছর আগে

মো: ওমর ফারুক : রায়পুর উপজেলার এক কোণে, শতাব্দী প্রাচীন এক ছোট্ট মসজিদ ঘিরে রয়ে গেছে অসংখ্য রহস্য ও কিংবদন্তি। স্থানীয়দের মুখে মুখে যেটি পরিচিত — “জ্বিনের মসজিদ” নামে।

এই মসজিদটি রায়পুর উপজেলার দক্ষিণাংশের এক গ্রামীণ এলাকায় অবস্থিত। কথিত আছে, এক রাতে কেউ কিছু না বুঝেই দেখতে পায় মসজিদের ছাদ, দেয়াল, এমনকি মিনারও নতুনভাবে নির্মাণ হয়ে গেছে। কেউ কেউ বলেন, এটা মানুষের কাজ নয় — জ্বিনদের দ্বারা নির্মিত। এ থেকেই মসজিদের নামকরণ হয় “জ্বিনের মসজিদ”।

স্থানীয় বাসিন্দা হেলাল উদ্দিন বলেন,

“আমরা বহু বছর ধরে শুনে আসছি, রাতে এখানে আলো জ্বলে, অথচ কেউ সেখানে থাকে না। আজও কেউ চোখে দেখেনি কে আসে।”

মসজিদটির ইমাম মাওলানা সিরাজুল হক জানান,

“এই মসজিদে মানুষ নামাজ পড়তে আসে বিশেষ করে বৃহস্পতিবার রাতে। অনেকে মনোবাসনা পূরণের আশায় আসে, কেউ মানত করে, কেউ নিঃসন্তান দম্পতি সন্তান চায়।”

ধর্মীয়ভাবে যদিও ইসলাম জ্বিনের অস্তিত্বকে স্বীকার করে, তথাপি এরকম কাহিনী সত্যি নাকি কুসংস্কার — তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। রায়পুর ইসলামি ফাউন্ডেশনের এক কর্মকর্তা বলেন,

“মানুষের বিশ্বাসকে সম্মান করতে হবে, তবে যুক্তি ও কোরআন-হাদীসের আলোকে যাচাই করে চলা জরুরি।”

এই মসজিদ এখন স্থানীয় ও বাইরের মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। কেউ আসে জেনে-বুঝে, কেউ কেবল কৌতূহলে। মসজিদ ঘিরে গড়ে উঠেছে হালকা বাণিজ্যিক পরিবেশও — দোকানপাট, প্রসাদ বিক্রেতা, মানতের দোকান।