
নিজস্ব প্রতিবেদক, নেত্রকোনা (খালিয়াজুরী) : নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার হাওরাঞ্চলে টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে বোরো ধান তলিয়ে গেছে। এতে কৃষ্ণপুর এলাকার ছায়ার হাওরের প্রায় পুরো ফসল পানির নিচে চলে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দিনের বৃষ্টির পর বৃহস্পতিবার ভোরে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়।
কৃষকেরা জানান, কয়েক দিনের ধারাবাহিক বৃষ্টিতে হাওরে পানির চাপ দ্রুত বেড়ে যায়। ফলে অনেক কৃষক শেষ সময়ে ধান কাটার সুযোগ পাননি। কৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক মো. রুহুল আমিন বলেন, “৫০ কাঠা জমির ধান পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে। এক মুঠো ধানও ঘরে তুলতে পারলাম না।”
ফসল হারানোর পাশাপাশি গবাদিপশুর খাদ্যসংকটের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। লক্ষ্মীপুর গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, “ধান না থাকলে খড়ও থাকবে না। গরুর খাবার নিয়ে বড় সমস্যা হবে।”
স্থানীয়রা আরও জানান, শ্রমিক সংকট ও অব্যাহত বৃষ্টির কারণে আগে কাটা ধানও শুকাতে না পেরে নষ্ট হচ্ছে। কোথাও কোথাও ধানে অঙ্কুর গজানোর ঘটনাও দেখা গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, উপজেলায় প্রায় ২১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ৫১ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে এবং প্রায় ২০ শতাংশ জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ সরকারি হিসাবের চেয়ে বেশি। এতে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাদির হোসেন শামীম বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন কাজ করছে। দ্রুত ধান কাটার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে নতুন করে পানি বাড়ার শঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে বলেছেন, অতিবৃষ্টি ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে সরকার থাকবে। তিনি খাদ্য ও কৃষি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন এবং জানান, প্রধানমন্ত্রী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য খাদ্য সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
