
ফারজানা আক্তার বৃষ্টি, নিজস্ব প্রতিবেদক:
তীব্র এই গরমে সকলেরই বেহাল অবস্থা। এমন তীব্র গরমে অনেকে একাধিক অসুখে হচ্ছেন আক্রান্ত। ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বা ইউরিন ইনফেকশনেও আক্রান্ত হচ্ছে মানুষজন।
মানব দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কিডনি থেকে শুরু করে মূত্রনালী পর্যন্ত দীর্ঘযাত্রা পথের কোথাও কোন একটি জায়গায় ইনফেকশন হলে তাকে বলা হয় ইউরিন ইনফেকশন। এ ক্ষেত্রে যা হয় প্রস্রাব করার সময় জ্বালা – যন্ত্রণা, প্রস্রাবে রক্ত যাওয়া , পেটে ব্যথা, তলপেটে ব্যথা, জ্বর, কাঁপুনি ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
গরমের এই সময়ে ঘামের মাধ্যমেই দেহের অনেকটা পানি বের হওয়ার ফলে প্রস্রাব পর্যাপ্ত পরিমাণে হয় না। এই কারণে ইনফেকশনের আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।
চলুন জেনে নেওয়া যাক এই গরমে কীভাবে ইউরিন ইনফেকশন প্রতিরোধ করবেন?
১. পর্যাপ্ত পানি পান:
পর্যাপ্ত পানির অভাবে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। তারমধ্যে ইউরিন ইনফেকশন অন্যতম।
শরীরে যদি পানির ঘাটতি হয় তাহলে ইউরিন হয় না। তখন ইউরিনারি ট্র্যাক্টে বাড়তে পারে ব্যাকটেরিয়া। আর এই কারণেই সংক্রমণ হয়। এদিকে ইউরিন আউটপুট ঠিক থাকলে প্রস্রাবের সঙ্গেই ব্যাকটেরিয়া দেহের বাইরে চলে আসে। ফলে ইনফেকশন হওয়ার সুযোগ থাকে না। তাই গ্রীষ্মের দিনে অন্ততপক্ষে ৩ থেকে ৪ লিটার পানি খাওয়ার অভ্যাস করুন।
২. ডাবের জল ও ফলের রস পান করুন:
অনেকেই আছেন দেখা যায় তারা দিনে ৩ থেকে ৪ লিটার পানি খেতে পারেন না। তারা সেই ঘাটতি মেটানোর জন্য ডাবের পানি ও ফলের রস খেতে পারেন। এগুলো থেকে শরীরে পানির ঘাটতি মিটবে অনেকাংশ। পাশাপাশি দেহে খনিজ, ভিটামিন এবং ইলেকট্রোলাইটস পৌঁছে যাবে। ফলে যে কোনও ধরনের সংক্রমণই দূরে থাকতে বাধ্য হবে।
৩. বাইরের টয়লেট কম ব্যবহার করুন:
সাধারণত বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই টয়লেট থেকেই এই রোগের জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে। তাই চেষ্টা করুন এই সময়টায় অন্তত পাবলিক টয়লেট এড়িয়ে চলার। বিশেষত, মহিলাদের পাবলিক টয়লেট এড়িয়ে যাওয়া একান্ত উচিত। তবে যদি একান্তই প্রয়োজন হয় তখন ব্যবহারের আগে পাবলিক টয়েলট জীবাণুনাশ করে নেওয়ার চেষ্টা করুন।
৪. দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব চেপে রাখা যাবে না:
প্রস্রাব ধরে রাখলে ব্লাডারে অনেকটা সময় ধরে ব্যাকটেরিয়া উপস্থিত থাকার সুযোগ পায়। তখন হতে পারে ইউরিন ইনফেকশন। এই পরিস্থিতিতে সচেতন থাকা ছাড়া অন্য কোন গতিও নেই। তাই প্রস্রাব কখনই ৩০ মিনিট বা তার বেশি সময় ধরে আটকে রাখবেন না।
৫. চিকিৎসকের পরামর্শ নিন:
অনেকের বছরে একাধিকবার এই অসুখে আক্রান্ত হয়ে থাকে । তাঁদের বিশেষভাবে সচেতন হতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কী কারণে বারবার এমন সমস্যা হচ্ছে তা খুঁজে বের করে দেখতে হবে। তারপর সঠিক চিকিৎসা নিতে হবে।
