
সাতক্ষীরা শ্যামনগর থেকে সিরাজুল ইসলাম: উপকূল মানেই লবণাক্ত পানি, ঘূর্ণিঝড়, নদী ভাঙন আর জীবিকার অমোঘ সংগ্রাম। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নারী জেলেরা এই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। নদীতে পোনা চিংড়ি ধরতে তারা দিনে ৪-৫ ঘণ্টা লবণাক্ত জলে দাঁড়িয়ে কাটান। এর ফলে ত্বক, চুল, প্রস্রাব ও জরায়ুসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
রেহানা খাতুনের মতো বহু নারী স্বামী পরিত্যক্তা হলেও পরিবারের জীবিকা চালাতে নদীতে মাছ ধরছেন। “জাল না ঠেললে খাওয়া চলে না,” বললেন তিনি। অন্যদিকে ৪৫ বছর বয়সী গীতা মুন্ডা জানালেন, “ডাক্তার বলেছেন, এই পানিতে কাজ করলে শরীর নষ্ট হবে। আমার জরায়ু অপসারণ করতে হয়েছে।”
এছাড়া ঋতুস্রাবের সময় পুরনো কাপড় ব্যবহারের ফলে কিশোরী ও নারীরা গাইনোকোলজিক্যাল সংক্রমণে ভুগছেন। অনেকেই মাসিক বন্ধ রাখতে জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল খাচ্ছেন, যা স্বাস্থ্য ও মানসিক বিকাশে প্রভাব ফেলছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ১৭ লাখ ৬৪ হাজার নিবন্ধিত জেলের মধ্যে নারীর সংখ্যা নেই। পটুয়াখালীতে প্রায় ১০ হাজার নারী মৎস্যজীবীর মধ্যে মাত্র ৫০০ জন পেয়েছেন সরকারি নিবন্ধন।
তবে কিছু এনজিও ও নারী সংগঠন যেমন সিসিডিবি, ইকোফিশ, সিডিআইও নারীদের বিকল্প জীবিকা, প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে। নারী জেলেরা এখন কমিউনিটি ভিত্তিক কো-ম্যানেজমেন্ট কমিটিতেও অংশ নিচ্ছেন।
শ্যামনগরের নারীরা প্রতিদিন ভোরে নদীর পথে হাঁটেন, হাতে জাল, পিঠে সংসারের বোঝা। লবণাক্ত পানির সাথে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে তারা এখন শুধু মৎস্যজীবী নন, জলবায়ুর বিরুদ্ধে নিঃশব্দ যোদ্ধাও।
