অপহরণ নাটক সাজিয়ে হয়রানি ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ, লক্ষ্মীপুরে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের পত্রিকা
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

নিজস্ব প্রতিবেদক, লক্ষ্মীপুর : লক্ষ্মীপুরে প্রবাসী এক পরিবারের ওপর অপহরণের নাটক সাজিয়ে হয়রানি, মুক্তিপণ দাবি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কাতারপ্রবাসী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সেলিম সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ তুলে ধরেছেন।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে শহরের ঐতিহ্য কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন তিনি।

মোহাম্মদ সেলিম জানান, তিনি লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে কাতারে ব্যবসা করছেন। তাঁর একমাত্র ছেলে শাহী কানন লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। তাঁকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী মহল পরিকল্পিতভাবে তাঁদের পরিবারকে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী কাজী মাকছুদুল হকের ভাগিনা মেহেরাজের নেতৃত্বে একটি দল তাঁর ছেলেকে অপহরণ করে হ্যাপী রোড এলাকার একটি বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে কয়েক ঘণ্টা আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় এবং ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে মুচলেকা নিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হলেও অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে হুমকি অব্যাহত থাকে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, দাবিকৃত টাকা না পেয়ে কাজী মাকছুদুল হক তাঁর মেয়েকে ব্যবহার করে শাহী কাননের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা ও বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। গত ১ এপ্রিল সকালে ওই মেয়ে পরিকল্পিতভাবে সেলিমের বাসায় গিয়ে শাহী কাননকে ডেকে নিয়ে যান—এমন দাবি করে সেলিম বলেন, ঘটনাটির সিসিটিভি ফুটেজও রয়েছে।

পরে মেয়েকে অপহরণের অভিযোগ তুলে একটি মামলা দায়ের করা হয় এবং শাহী কাননকে কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান তিনি। সেলিমের দাবি, মেয়ের স্বীকারোক্তিতে অপহরণের ঘটনা ঘটেনি। পরবর্তীতে আদালত তাঁর ছেলেকে জামিন দিলেও অভিযুক্ত পক্ষ থেকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ সেলিম আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে তাঁকেও মুঠোফোনে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কাজী মাকছুদুল হকের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তোলা হয়। তাঁর স্ত্রী ফাতেমা তুজ জোহরা, যিনি সদর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী, তাঁর বিরুদ্ধেও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়।

সংবাদ সম্মেলনের শেষে প্রবাসী পরিবারটি তাদের ওপর চলমান হয়রানি বন্ধ, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে।